স্ত্রী কর্তৃক তালাকের নোটিশ ও রেজিস্ট্রেশন
যদি স্বামী তার দায়িত্ব পালন না করে, নির্যাতন করে অথবা শরিয়তসম্মত কারণ বিদ্যমান থাকে, তাহলে শরিয়ত ও আইন অনুযায়ী স্ত্রী তালাক চেয়ে কাজীর মাধ্যমে নোটিশ প্রদান করতে পারেন। এখানে তালাক রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হবে।
শরিয়াহ অনুযায়ী তালাকের বিধান
الطَّلَاقُ مَرَّتَانِ فَإِمْسَاكٌ بِمَعْرُوفٍ أَوْ تَسْرِيحٌ بِإِحْسَانٍ
“তালাক দু’বার প্রদান করা যায়, এরপর হয় ভালোভাবে রেখে দেওয়া
অথবা সুন্দরভাবে বিদায় দেওয়া।”
(সূরা আল-বাকারা: ২২৯)
لَا يَفْرَكْ مُؤْمِنٌ مُؤْمِنَةً، إِنْ كَرِهَ مِنْهَا خُلُقًا رَضِيَ مِنْهَا آخَرَ
“কোনো মুমিন পুরুষ যেন মুমিন স্ত্রীকে সম্পূর্ণ ঘৃণা না করে। তার একটি স্বভাব অপছন্দ হলে অন্য স্বভাব পছন্দ হবে।”
(সহিহ মুসলিম: ১৪৬৯)
তালাকের প্রক্রিয়া (ধাপে ধাপে)
১
কাজীর মাধ্যমে তালাকের নোটিশ প্রদান
২
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও নোটারি/এফিডেভিট সংযুক্ত
৩
কাজীর মাধ্যমে তালাকের নোটিশ প্রদান
৪
কাজীর মাধ্যমে তালাকের নোটিশ প্রদান
৫
কাজীর মাধ্যমে তালাকের নোটিশ প্রদান
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
স্ত্রী আদালত থেকে খুলা তালাক নিতে পারেন।
শরীয়তসম্মত কারণ থাকতে হবে।
নোটিশ প্রদানের মাধ্যমে প্রক্রিয়া শুরু হবে।
ইদ্দত পালন শেষে তালাক রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হবে।
তালাক রেজিস্ট্রেশন প্রমাণ আইনগতভাবে বৈধ হবে।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
স্ত্রী জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)
বিয়ের নিবন্ধন কাবিননামা
কাজীর ফি + সরকারি ফি
প্রয়োজন হলে আদালতের আদেশ / সালিশের তথ্য / প্রত্যয়নপত্র (যদি থাকে)
সাক্ষীগণ (যদি থাকে)
আইনি ভিত্তি
- Muslim Family Laws Ordinance, 1961 (Ordinance No. VIII of 1961)
- মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন এবং বাংলাদেশ সংবিধান
- বাংলাদেশে প্রচলিত শরীয়ত আইন
কাজীর পরামর্শ ও সতর্কতা
ইসলামে তালাক একটি অপছন্দনীয় কিন্তু অনুমোদিত বিষয়। শরীয়ত অনুযায়ী তালাক প্রদানের ক্ষমতা অর্থাৎ কুরআনের নির্দেশনা অনুযায়ী সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।
স্বামী স্ত্রী উভয়ের উচিত সালিশের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা। বিশেষ প্রয়োজনে আদালত বা আইনগত সহায়তা গ্রহণ করতে পারেন। তবে, প্রয়োজন হলে কাজীর মাধ্যমে তালাক (খোলা/তাফওয়ীজকৃত তালাক) কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবেন।


